ভেঙে পড়ল গুজরাট মডেল! বড়োদরায় সেতু দুর্ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পরিকাঠামো, তৃণমূলের তীব্র কটাক্ষ বিজেপিকে

সকালের ঘুম ভাঙতেই চাঞ্চল্য মধ্য গুজরাটে। বড়োদরা জেলার পাডরা-মুজপুর এলাকায় মহিসাগর নদীর উপর নির্মিত গম্ভীরা সেতু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ। নির্মাণের বছর কয়েকের মধ্যেই এই সেতু ভেঙে পড়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে—এটাই কি গুজরাট মডেল?

সেতুর কিছু অংশ আচমকাই নদীতে ধসে পড়ে। ঘটনাক্রমে বড়োসড়ো প্রাণহানি না হলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। এলাকায় পৌঁছেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। সেতু ধসের পরপরই বিরোধীরা মুখ খুলেছে। এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে— “আর কত ট্র্যাজেডি হবে? এটাই কি সেই বহুল প্রচারিত গুজরাট মডেল?”

তৃণমূলের পোস্টে আরও লেখা হয়, “গুজরাটে আবারও একটি সেতু ভেঙে পড়ল। মানুষের জীবন নিয়ে কি এভাবেই ছেলেখেলা চলবে? এটা কি ‘ঈশ্বরের কাজ’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হবে, নাকি অবশেষে বিজেপি সরকার প্রতারণার দায় স্বীকার করবে?” উল্লেখ্য, এর আগেও গুজরাটে একাধিক সেতু ধস ও পরিকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে মোরবি সেতু ধসে ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার ক্ষত এখনো দগদগে।

গম্ভীরা সেতু ধস নতুন করে রাজ্যের পরিকাঠামোগত মান এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। যদিও এ নিয়ে গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনপূর্ব সময়ে এই ঘটনা বিজেপির কাছে যথেষ্ট অস্বস্তিকর হতে চলেছে। পরিকাঠামোর এই পরপর ভেঙে পড়া কি কেবল দৈব ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে গভীর গাফিলতি? এই প্রশ্ন এখন গোটা দেশের সামনে। সতর্কতা জারি হয়েছে এলাকায়। আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে সেতু সংলগ্ন রাস্তাগুলি। তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন— উন্নয়নের নাম করে আর কতকাল চলবে এমন মৃত্যুফাঁদ?





