জাতীয় পতাকা তুলে ১ অগাস্ট দিবস পালিত নদিয়ায়

১৫ অগস্ট নয়, এখনও নদিয়ার কিছু অংশে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয় ১৮ অগস্ট। তার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ এক ইতিহাস। কেন এমন হল? ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন ভারতের গভর্নর জেনারেল র্যাডক্লিফকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ জনের ‘বাউন্ডারি কমিশন’ গঠিত হয়। ৩০ জুন থেকে ১৪ অগস্ট— ৪৫ দিন সাক্ষ্য গ্রহণ-সহ একাধিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ‘বাউন্ডারি কমিশন’ রিপোর্ট তৈরি করে। ১৯৪৭ সালের ১২ অগস্ট র্যাডক্লিফের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয় নতুন মানচিত্র। মানচিত্র অঙ্কন করার সময় সাহেবের এক আঁচড়ের ভুলে নদিয়ার কৃষ্ণনগর, শিবনিবাস, রানাঘাট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
সেই সময় স্যর সিরিল র্যাডক্লিফ বালুরঘাটসহ রায়গঞ্জ ও অসমের বেশ কিছু এলাকাকে ‘ন্যাশনাল এরিয়া’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। অবশেষে ১৭ই আগস্ট বর্তমান বাংলাদেশের ধামারহাট, পোরসা, পত্নীতলা থানাগুলি বাদ দিয়ে বালুরঘাটসহ মোট পাঁচটি থানা এলাকা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮ই আগস্ট সকালে বালুরঘাটে ভারতীয় জওয়ানরা পজিশন নেন। পাকিস্তানি সেনাদের বালুরঘাট ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরেই পাকিস্তানি সেনা ফিরে যায়। অবশেষে ১৮ই আগস্ট প্রশাসনিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, স্বাধীন হয়েছে বালুরঘাট। স্বাধীন বালুরঘাটে প্রথম সরোজরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ভারতের পতাকা তোলেন। এরপর ১৯শে আগস্ট বালুরঘাট হাইস্কুল ময়দানে স্বাধীনতার বিজয় উৎসব পালন করেন বালুরঘাটবাসী।
সেই থেকেই ১৮ই আগস্ট দিনটি বালুরঘাটবাসীর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনটিকেই তাঁদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে মানেন শহরের বাসিন্দারা। আর সেই কারণেই আজও ১৮ অগাষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করে স্যালুট জানায় বালুরঘাটবাসী।১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে টানা ১৭ই আগস্ট পর্যন্ত ৩ দিন ধরে পূর্ব পাকিস্তানের অধীনে ছিল মুর্শিদাবাদ জেলা। স্যার সিরিল রাডক্লিপের নেতৃত্বে বাউন্ডারি কমিশনের সুপারিশ অনুসারে মুর্শিদাবাদ জেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে৷ আর পাল্টা খুলনা জেলা যুক্ত হয়েছিল ভারতের অংশে। সেই দিন ১৯৪৭এর ১৫ই আগস্ট জেলার সদর শহর বহরমপুরের ব্যারাক স্কোয়ার মাঠে পাকিস্তানের নামে প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পালিত হয়।
তিন দিনের টান টান উত্তেজনার পর ১৭ই আগস্ট ১৯৪৭, সরকারিভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় ‘মুর্শিদাবাদ’। পরের দিন ১৮ই আগস্ট মুর্শিদাবাদে প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। বহরমপুর শহরের বুকে আরও একবার ব্যারাক স্কোয়ার মাঠে জেলাশাসক আই আর খান নিজে হাতে তোলেন ভারতের জাতীয় পতাকা। মঞ্চে সুধীর সেনের গলায় ভেসে ওঠে গান। তাই বালুরঘাট, নদীয়ার মতোই মুর্শিদাবাদও স্বাধীনতার স্বাদ একটু দেরিতেই পায়।





