Breaking Newsবিদেশ

নেতানিহুর সঙ্গে মিলে ইরানে হা.মলা চালাবে ট্রাম্প?

মধ্যপ্রাচ্যে বাজছে যুদ্ধের দামামা। সপ্তম দিনে গড়াল ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত। বৃহস্পতিবার সকালে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে পর পর ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা শুরু করেছে ইরান। তার মধ্যে কয়েকটি সাধারণ নাগরিকদের বসতি এলাকাতেও পড়েছে বলে অভিযোগ ইজ়রায়েলের। পাশাপাশি ইজ়রায়েলি সেনা কমান্ড অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এ ছাড়া গাভ-ইয়ামে ইজ়রায়েলের সামরিক গোয়েন্দাদের একটি দফতরেও হামলা হয়েছে বলে খবর। সেই সঙ্গে তেল আভিভেও আছড়ে পড়তে শুরু করেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। বেশ কিছু বহুতল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বের-শেভা শহরে একটি হাসপাতালেও হামলা হয়। এই হামলায় অন্তত ৬৫ জন জখম হয়েছেন বলে দাবি ইজ়রায়েলের জরুরি পরিষেবা বিভাগের। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে জখম হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।এরপরেই তেহরানকে হুঁশিয়ারি শানিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরানের ‘সন্ত্রাসী স্বৈরাচারীরা’ বেরশেভার সোরোকা হাসপাতালে এবং মধ্য ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের বসতি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর মুল্য চোকাতে হবে ইরানকে!”

অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচে আদরাই জানান, লেবাননের হিজবুল্লাহর আর্টিলারি বিভাগের কমান্ডার ইয়াসিন আবদেল মোনেম ইজ্জেদিনকে হত্যা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে ফের হামলা চালাল ইজ়রায়েল। ইরানেরের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, খোনদাব শহরে ভারী জলের গবেষণাকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েলি বাহিনী। বস্তুত, এই ভারী জল পরমাণু রিঅ্যাক্টরকে শীতল রাখতে ব্যবহার হয়। যদিও ইরানের দাবি, হামলার আগেই ওই কেন্দ্রটিকে ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে সেখান থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ানোর কোনও আশঙ্কা নেই।

এই অবস্থায় আমেরিকা কী পদক্ষেপ করবে সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। জানা যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেননি। ট্রাম্প জানান, “আমি এটা করতে পারি, আবার নাও করতে পারি। কেউ জানে না আমি কী করতে চাই। তবে এতটুকু বলতে পারি, ইরান বড় সমস্যায় আছে এবং আলোচনায় ফিরতে চায়।” তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০টি সামরিক উড়োজাহাজ আমেরিকার ঘাঁটি থেকে ইউরোপে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ইউএসএস নিমিৎজ নামের একটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। পাশাপাশি ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে আরো কিছু যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে স্থানান্তর করেছে। সেক্ষেত্রে আমেরিকা যে সরাসরি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জরাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button