ফের সোচ্চার চাকরিহারারা, দিল্লির পথে তিন শিক্ষক…

এসএসসি নিয়োগ মামলায় নয়া নির্দেশ। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত বিধির বিরোধিতা করে একাধিক মামলা হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার উচ্চ আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এখনই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হবে না। এরপরেই কার্যত স্বস্তিতে রাজ্য। কিন্তু এই রায়ের পরেই ফের উত্তেজিত চাকরিহারারা।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়োগ বাতিল হয়। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয় শীর্ষ আদালত। ৩১ ডিসেম্বর মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর লুবানা পারভিন, মৌসুমি ঘোষ দাসের মতো চাকরিপ্রার্থীরা নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। ২০১৬ সালের ঘোষিত শূন্যপদের বেশি শূন্যপদে কেন নিয়োগ হবে, ২০১৬ রুল পরিবর্তীত করে কেন পরীক্ষা হচ্ছে এই সব প্রশ্ন তোলেন মামলাকারীরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার উচ্চ আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এখনই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।

সোমবার বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম হাই কোর্টে জানান, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসএসসি-র নতুন বিজ্ঞপ্তিতে অনেক বিধিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তির মতো নয়। নতুন এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম বদল হলে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ আরও কমে যাবে।
মামলাকারীদের আর্জি শোনার পর বিচারপতি জানান, আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ভাবে চলতে দেওয়া হবে। এর মধ্যে ফের কোনও অসুবিধা বা সমস্যা তৈরি হলে তখন আদালত বিষয়টি দেখবে। অন্যথায় আগামী জুলাই মাসে মামলা শুনবে আদালত।
অপরদিকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এসএসসি। চাকরিহারা শিক্ষকদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মেনেই ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা নতুন করে পরীক্ষায় বসতে রাজি নন। পরীক্ষায় না বসেই কীভাবে তাঁদের চাকরিতে বহাল রাখা যায় সে ব্যাপারে আইনি পরামর্শও করছেন তাঁরা। এবার সেই বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে চান তাঁদের তিন প্রতিনিধি। সেই উদ্দেশ্যে দিল্লি গেলেন চাকরিহারা তিন শিক্ষক। সোমবার সকালে দিল্লি রওনা দিয়েছেন সুমন বিশ্বাস সহ চাকরিহারা ‘যোগ্য’ তিন শিক্ষক।





