Breaking Newsআরও ≡দেশ

৪০ সেকেন্ডে নিশচিহ্নপ্রায় ধারালি! হড়পা বানে ভাসল সেনা ক্যাম্প, নি*খোঁ*জ ১০ জওয়ান

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে ফের প্রকৃতির ভয়াল থাবা। মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে তছনছ হয়ে গেল ক্ষীরগঙ্গা নদীর গা ঘেঁসে থাকা ধারালি গ্রাম। আচমকা বান এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেল ঘরবাড়ি, দোকান, এমনকি সেনা ক্যাম্পও। মাত্র ৪০ সেকেন্ডে নদীর দুই পাড় গিলে নিয়েছে একটা গোটা গ্রাম। বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গ্রাম থেকে ভেসে গিয়েছে প্রায় ২০-২৫টি হোটেল ও হোমস্টে। প্রায় ৫০ জন নিখোঁজ বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুরে ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ধরালী গ্রামে শুরু হয় মেঘভাঙা বৃষ্টি। দুই কিলোমিটারের মধ্যে নামে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি। আর তার সঙ্গে নামে ভূমিধ্বস। ধরালি গ্রামের ওপরে থাকা পাথরের খাঁজ ভেঙে পড়ে। যার জেরে মুহূর্তে বদলে যায় ভাগীরথী নদীর গতিপথ। নদীর উচ্চ অববাহিকা থেকে ধেয়ে আসে বিশাল জলরাশি। সেই জলেই ভেসে যায় ধারালি। কাদা, পাথর আর জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে একের পর এক বাড়ি। নদীতে তলিয়ে যায় বহু ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মাত্র ৪০ সেকেন্ডেই মাটিতে মিশে যায় ৩০টি হোটেল, ৭টি হোমস্টে। এক মুহুর্তে সর্বস্ব খোয়ায় প্রায় ৬০টির মতো পরিবার। অপরদিকে জলের তোরে ভেসে যায় হরশিলে ভারতীয় সেনার ছাউনি। ওই সেনা ছাউনির ৯ জওয়ান নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। সেই ধাক্কা সামলে বাকি জওয়ানরা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

পাশাপাশি NDRF, SDRF, সেনা উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৫ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর খবর এসেছে। নিখোঁজ প্রায় ৫০ জন। তাঁদের খোঁজার চেষ্টা চলছে। এছাড়া মঙ্গলবার ভোর থেকেই হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় নজরদারি চলছে। যেসব এলাকায় রাস্তা ভেঙে গেছে, সেখানে পায়ে হেঁটে বা দড়ি বেয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গতদের অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাবার, জল ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পুষ্কর সিং ধামি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারও রাজ্যকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। অপরদিকে গোটা ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘উত্তরকাশীর ঘটনায় আমি মর্মাহত। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সবরকম সাহায্য় করা হবে।’ অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামীকেও ফোন করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সবরমকভাবে তিনি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button