অবসর নিয়ে ভাগবত-বাণী, নিশানায় প্রধানমন্ত্রী পদ? জল্পনা তুঙ্গে

৭৪ বছর ১০ মাস, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৭৫-এ পা দেবেন নরেন্দ্র মোদী। তবে এই জন্মদিন কতটা শুভ হবে সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত জানিয়েছিলেন, ৭৫ বছরের পর নিজে থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। অন্যদের কাজ করার সুযোগ করতে হবে। এই বার্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর পূর্ণ করছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁরই তৈরি করা ‘বিধান’—ওই বয়সের পর সরে যেতে হবে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে। তাহলে একই নিয়ম প্রধানমন্ত্রী পদেও কার্যকর হওয়া উচিত? এই চর্চা আগুনের শিখার মতো ছড়াচ্ছে দলের এবং আরএসএসের অন্দরে।
সদ্য লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা সফর সেরে ঘরে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরই মধ্যে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত হাওয়ায় যে কথা ভাসিয়ে দিয়েছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় সর্বভারতীয় রাজনীতি। কৌতূহলও চাড়িয়ে গেছে গোটা দেশ জুড়ে! সরসঙ্ঘচালকের এই কথার সূত্র ধরেই এবার এই বিষয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।
মোদীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন,“এ কেমন হোমকামিং! প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরতে না ফিরতেই আরএসএস প্রধান স্মরণ করিয়ে দিলেন, এ বছর ১৭ই সেপ্টেম্বর উনি ৭৫-এ পা দেবেন।” জয়রাম খোঁচা দিয়ে আরও বলেন,“ হয়তো প্রধানমন্ত্রী পাল্টা বলতে পারেন ভাগবত নিজেও তো ১১ই সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর পূর্ণ করবেন। তাহলে কী এক তীরেই দুই নিশানা?”
অন্যদিকে, অমিত শাহকে একবার এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি অবশ্য জানিয়েছিলেন, ২০২৯ সালেও প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন নরেন্দ্র মোদীই। ফলে অবসর গ্রহণের জন্য বয়সে এই নিয়ম তাঁর ক্ষেত্রে খাটবে না। তিনি ব্যাতিক্রমী। গতবছর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ৭৫ বছর বয়সে অবসর নিতে হবে, BJP-র সংবিধানে এমন কোনও আইন নেই। সেই মতো মোদীও ৭৫ বছরে অবসর নেবেন, এমন কোনও সম্ভাবনাই নেই। ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিনিই প্রধানমন্ত্রী ও সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন। তবে সেটাতে সঙ্ঘের যে আপত্তি থাকবে, তার ইঙ্গিত মিলে গিয়েছে মোহন ভাগবতের বৃহস্পতিবারের কথাতেই।





