রাম-নাম ছেড়ে দুর্গা-কালীর শরণে বিজেপি, মানুষের মধ্যে ভগবান খুঁজুন কটাক্ষ তৃণমূল শিবিরের

প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপুর সফরের আগে বিজেপিকে ঘিরে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি কার্ড। ‘প্রিয় দুর্গাপুরবাসী’, এই বার্তা দিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সভার আমন্ত্রণপত্র। তাতেই লেখা, “ভারত মাতার জয়, জয় মা দুর্গা, জয় মা কালী”। ‘জয় শ্রীরাম’ নেই, এই নজরকাড়া পরিবর্তন ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। স্ট্র্যাটেজি কি এবার বদলাচ্ছে গেরুয়া শিবির? প্রশ্ন উঠছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
ঠিক ৫০ দিন পর রাজ্যে ফের পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২১-এর বিধানসভা হোক বা ২০২৪-এর লোকসভা- জয় শ্রীরাম বলে ভোট চাইতে গিয়েছে বিজেপি। আর সেই জয়ধ্বনিতে যত না ভক্তি, তার থেকে বেশি ছিল ঔদ্ধত্য- অভিযোগ বিরোধীদের। বাংলার মানুষও সেটা গ্রহণ করেনি তার প্রমাণ মিলেছে ভোট বাক্সে। এই পরিস্থিতি উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও বাংলা-বিরোধীর তকমা গা থেকে ঝেড়ে ফলতে চাইছে বিজেপি। শমীক ভট্টাচার্যের আমলে, সেই কারণে রাম ছেড়ে রামচন্দ্র যে দেবীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন, সেই দুর্গা ও কালীর শরণে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব। মোদির সভায় আসার যে আমন্ত্রণপত্র বিলি হয়েছে তার উপরে লেখে ‘প্রিয় দুর্গাপুরবাসী’। দ্বিতীয় লাইনেই লেখা, “ভারত মাতার জয়, জয় মা দূর্গা, জয় মা কালী”। বাংলার মানুষের মন জয়ের করতেই এই স্ট্র্যাটেজি বদল বলে মত রাজনৈতিক মহলের। এর আগে শমীক ভট্টাচার্যের দায়িত্ব নেওয়া
শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, তিনি সবার ধর্মাচারণের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। যাঁর ইচ্ছে হবে কালী মন্দিরে যাবেন, যাঁরা ইচ্ছে হবে নমাজ পড়বেন- সবাই শান্তি থাকুন সেটাই তাঁরা চান। কিন্তু রামনামের বদলের কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি রাজ্য সভাপতি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার মসনদ থেকে তৃণমূলকে সরাতে হিন্দু ভোটকেই হাতিয়ার করে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। ‘জয় শ্রীরাম’। স্লোগানই ছিল সে সময়ে তাদের মূল মন্ত্র। তবে এই পন্থা খুব একটা লাভজনক হয়নি সে বছর। তবে এবার আর কেবলমাত্র হিন্দু ভোটের উপর নির্ভর করে নয়। বরং স্ট্র্যাটেজি বদল করে ফেলেছে গেরুয়া শিবির। সে কারণেই কি প্রধানমন্ত্রীর সভার আমন্ত্রণপত্রে ‘ভারত মাতা’-র পাশেই স্থান হল ‘মা কালী’ ও ‘মা দুর্গা’-র? উঠছে প্রশ্ন।





