বিশ্বভারতী থেকেই কেন ভাষা আন্দোলনের ডাক দিলেন মমতা?

বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আরও একবার লড়াইয়ের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর প্রতিবাদের স্থান মোটেও কাকতালীয় নয়। বাংলা ভাষার পক্ষে লড়াইয়ের শুরু হল শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দাঁড়িয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপীঠ থেকে এই বার্তা নিছক প্রতীকী নয়, বরং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এক সাংস্কৃতিক জবাব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গে শান্তিনিকেতনে বলেন, “বাংলা ভাষাকে যদি কেউ অপমান করে, বাংলার সংস্কৃতিকে যদি কেউ অপমান করে, তা হলে আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চুপ করে থাকতে পারি না।”
তবে মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বভারতী থেকে এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যাখ্যা করছেন বিরোধীরা। বিজেপি-র রাজ্য নেতৃত্বের মতে, “ভাষার নামে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানোর চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা ভাষা নয়, ভোটের রাজনীতি।” কিন্তু শিক্ষামহলের মতে, এই প্রতিবাদের অন্য মানে আছে। কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৈরি যে প্রতিষ্ঠান মাতৃভাষা ও বিশ্বচেতনার মিলনস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই জায়গা থেকেই বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলনের ডাক আসা নিঃসন্দেহে প্রতীকী শক্তির পরিচয় বহন করে।
বিশ্বভারতীর সাবেক ছাত্র ও অধ্যাপক মহলে এই প্রতিবাদের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলা ভাষার গুরুত্ব নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় নীতির প্রেক্ষিতে, তাতে এই প্রতিবাদ এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক জাগরণ তৈরি করতে পারে বলেই মত অনেকের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত বিভিন্ন স্তরে বাড়ছে—এখন সেটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রেও বিস্তার পাচ্ছে। তাই বিশ্বভারতী থেকে মমতার ভাষা আন্দোলনের শুরু একপ্রকার ‘সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ’ হিসেবে উঠে আসছে।





