নাচের ভিডিয়ো বিতর্কে উত্তাল কংকালীতলা সতীপীঠ, ক্ষমা চাইলেন অভিযু*ক্ত

সতীপীঠ কংকালীতলার গর্ভগৃহে নাচের ভিডিয়ো করে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন হীরু দাস নামে এক সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার বাসিন্দা হীরু নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে ১৯ সেকেন্ডের একটি রিল আপলোড করেন, যেখানে দেখা যায় তিনি মন্দিরের গর্ভগৃহে দাঁড়িয়ে উদ্দাম নৃত্যে মেতে উঠেছেন। ভিডিয়োর ওপরে লেখা ছিল— “অনুমতি নিয়ে মায়ের গর্ভগৃহে ভিডিও শ্যুট করলাম।” এর পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিয়োটি দেখে ফেলেন ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ।
ভক্তদের একাংশ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পবিত্র সতীপীঠের গর্ভগৃহে এমন কাণ্ড মেনে নিতে পারেননি বহুজন। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে— কে দিল এই অনুমতি? কেন মন্দির সেবায়েতরা উপস্থিত থেকেও তাঁকে বাধা দিলেন না?
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় শ্রীশ্রী কংকালীমাতা ঠাকুরানী ট্রাস্ট। মন্দির কমিটির ডাকে হাজির হন হীরু দাস। প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানান, “আমার ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে আর কখনও এমন ভিডিয়ো বানাব না।” তিনি দাবি করেন, গর্ভগৃহে প্রবেশের অনুমতি তিনি সেবায়েতদের থেকেই নিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। বহু নেটিজেন একে “আধ্যাত্মিক অবমাননা” বলে মন্তব্য করেছেন। বিতর্কিত ভিডিয়োটি অবশেষে ডিলিট করেন হীরু দাস। তবে তা ঘিরে যেভাবে সতীপীঠের পবিত্রতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তাতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির বার্তা দিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দির ট্রাস্টের তরফে ইতিমধ্যেই একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে গর্ভগৃহে বা মন্দির চত্বরে কোনো ধরনের ভিডিয়ো শ্যুট সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।





