শুভমানের রেকর্ডে টেস্ট সিরিজে সমতা ভারতের

এজবাস্টনে রচিত হল বিশ্ব ক্রিকেটে নয়া ইতিহাস। উদয় হল ক্রিকেট বিশ্বের নতুন তারকা আকাশদীপের। বুমরাহ না থাকলেও যে ভারতীয় ক্রিকেট অভিভাবকহীন নয়, তা প্রমাণ করে দিলেন বিহারের সাসারামের ছেলে তথা বাংলার দলের ক্রিকেটার আকাশদীপ। এক সময় বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে বাংলার দলে বোলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল আকাশদীপের।
কয়েক বছরে বাংলার ক্রিকেটের নির্বাচকদের মন জয় করে হয়ে উঠেছেন বাংলার ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। আর এরপর আইপিএল থেকে শুরু করে, এবার ভারতীয় ক্রিকেট দলেও স্থায়ীভাবে নিজের জায়গা আদায় করে নিলেন নিজের যোগ্যতা দিয়ে আকাশদীপ। তিনি বুঝিয়ে দিলেন আগামীর দিনে ভারতীয় ক্রিকেটের বোলিং বিভাগের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আর কেউ নয়। একমাত্র আকাশদীপ। দুই ইনিংসে ব্রিটিশদের নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করলেন তিনি, আর তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন মহম্মদ সিরাজ। আকাশদীপের ঝুলিতে দুই ইনিংস মিলিয়ে দশ উইকেট। আর ৩৩৬ রানের বিরাট ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে তাদের নিজেদের ঘরের মাঠে হারিয়ে টেস্ট সিরিজে সমতায় ফিরল ভারত। বল হাতে যদি এজবাস্টনের ম্যাজিশিয়ান হয়ে থাকেন আকাশদীপ, তাহলে ব্যাট হাতে ভারতীয় ক্রিকেটের নিজেকে অন্যতম সেরা স্তম্ভ এবং যোগ্য অধিনায়ক হিসেবে প্রমাণ করলেন শুভমান গিল। দুই ইনিংস মিলিয়ে করলেন ৪৩০ রান। ভাঙলেন বিশ্বের বহু তাবড় তাবড় ক্রিকেটারদের রেকর্ড।
টেস্টের পঞ্চম দিনে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র সাতটা উইকেট। কিন্তু সকাল থেকেই এজবাস্টনের আকাশের মুখ ভার। অবিরাম বৃষ্টিপাত! কপালে চিন্তার ভাঁজ এনে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। তাহলে কি জয়ের সামনে গিয়েও নিরাশ হয়ে ফিরতে হবে টিম ইন্ডিয়াকে ? কিন্তু কয়েক ঘন্টার বৃষ্টি সাপে বর হল ভারতীয় দলের জন্য। উইকেট কন্ডিশন ভারতীয় বোলারদের জন্য আদর্শ হয়ে উঠল বৃষ্টির পরে। ফলে একদিকে মাথার উপরের আকাশ ।
অন্যদিকে ভারতীয় বোলিং বিভাগের আকাশের সহযোগিতায় হাসতে হাসতে ইংল্যান্ডের ৭ উইকেট ফেলে দিয়ে, টেস্ট জিতে নিল ভারত। চা পানের বিরতির আগেই ২৭১ রানে অলআউট হয়ে গেল ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৮ রান করলেন জেমি স্মিথ। আর ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের এই সাফল্য আগামী টেস্টগুলোতেও ভারতীয় দলকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে তা বলা যেতেই পারে।





