‘‘খাব না! আমার মাথা যন্ত্রণা করছে’’, মেঘালয়ে যাওয়ার পথে পুলিশকে বললেন সোনম

টানা ১৬ দিন ধরে লুকোচুরি! মেঘালয়ে ঘুরতে গিয়ে কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছিলেন নবদম্পতি, কূলকিনারাই পাচ্ছিলেন না তদন্তকারীরা। অবশেষে কাঁটল ধোঁয়াশা। সোমবার তাঁকে উত্তরপ্রদেশের গাজ়িপুরে একটি ধাবা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সোনমকে। তাঁকে নিয়ে ইতিমধ্যেই মেঘালয়ে গিয়েছে শিলং পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, সোনম বেশ কয়েকবার পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা করছে। এমনকি ঘুমের অসুবিধাও হচ্ছে। এই কারণে মেঘালয় যাওয়ার পথে রাস্তায় একাধিকবার গাড়িও থামানো হয়। এমনকি পুলিশের তরফে সোনমের বিশ্রামের ব্যবস্থা করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। কিন্তু তাতে সম্মতি দেননি। খাবার দেওয়া হলে তা খেতেও অস্বীকার করেছেন সোনম। পুলিশ বার বার তাঁকে কোনও কথা জিজ্ঞাসা করলে চুপ করে থাকছেন সোনম।

কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে স্বামী খুনে অভিযুক্ত সোনমকে। উত্তর প্রদেশ পুলিশ হাতে সোনম ধরা পড়লে, গোটা ঘটনার তদন্তভার রয়েছে মেঘালয় পুলিশের হাতে। সেই সূত্রে ধরেই সোনমকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মেঘালয়ে। কিন্তু শিলং বা নিকটবর্তী অসমের গুয়াহাটি পর্যন্ত কোনও ফ্লাইট না থাকায় মঙ্গলবার প্রথমে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে তাকে।
তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের দাবি, সোমবার ভোরে গ্রেফতার হওয়ার পরে সোনম প্রথমে দাবি করেছিল, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে তাকে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। গাজিপুর-বারাণসী রোডের পাশে এক ধাবা থেকে সে তার বাড়ির লোকজনকে ফোন করে অপহরণের ঘটনা জানায়। সোনম সেই বয়ান সোমবার কখন দিয়েছিল, তা নথিভুক্ত করে রেখেছে পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশে পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অমিতাভ যশের দাবি, তার কয়েক ঘণ্টা পরে জেরায় সোনম তার বয়ান বদলে দেয়।
ওই পুলিশ কর্তা জানান, সোনম দাবি করে, তাকে মাদক খাওয়ানো হয়েছিল। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে গাজিপুরে নিয়ে আসা হয়। পুলিশের জেরায় সোনম বলে, সে ঘটনার শিকার। সে নিজেই আক্রান্ত। সোনম বারবার তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উত্তরপ্রদেশ পুলিশের।

এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অমিতাভ যশ জানান, সোনম বড্ড কাঁচা কাজ করে ফেলেছে। তার পরিকল্পনায় বিস্তর গলদ ছিল। সে ভেবেছিল, নিজেকে আক্রান্ত সাজিয়ে সে পার পেয়ে যাবে। এও ভেবেছিল, নিজের বিধ্বস্ত চেহারা ও মানসিক ‘বিপর্যস্ত অবস্থা’-কে ঢাল করে পুলিশের কাছে মিথ্যা কথা বললে তদন্তকারীরা তা ১০০ শতাংশ বিশ্বাস করে বসবেন। কিন্তু পুলিশের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে কোনও ধারনাই নেই সোনমের। কখন, কার সামনে কী বয়ান সোনম দিয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ নথিভুক্ত করে রাখা হয়েছে। সোনম নিজের জালে নিজেই জড়াচ্ছে।
ওই আইপিএস কর্তা জানান, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সোনমকে জেরা করছে। তার কারণ উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোনমকে। খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ থেকে আর যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদেরও জেরা করা হচ্ছে।
কিন্তু মামলার তদন্ত করছে মেঘালয় পুলিশ। বলা ভালো, সেখানকার ইস্ট খাসি হিলস জেলার পুলিশ। ওই জেলারই এক দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার হয় ইন্দোরের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ও সোনমের স্বামী রাজা রঘুবংশীর মৃ.তদে.হ।





