আবীরের পথ কি এবার শুধুই অন্য ধারার? ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ ঘিরে নতুন জল্পনা

আবীর চট্টোপাধ্যায়ের কেরিয়ার গ্রাফ আজকের বাংলা সিনেমার অন্যতম আলোচিত বিষয়। জনপ্রিয় কমার্শিয়াল চরিত্র ফেলুদা হোক কিংবা ঐতিহাসিক চরিত্র ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’, আবীর বারবার প্রমাণ করেছেন তাঁর অভিনয় দক্ষতা। তবে সাম্প্রতিক সময়ের একটি প্রশ্ন ক্রমেই উঠছে—আবীর কি এখন শুধু অন্য ধারার, অফবিট বা বুদ্ধিদীপ্ত ছবিতেই অভিনয় করতে চাইছেন?
‘পুতুলনাচের ইতিকথা’র মতো ছবিতে তাঁর উপস্থিতি সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এই জটিল উপন্যাসের চলচ্চিত্ররূপায়ণ কোনো সহজ কাজ নয়। এই ছবিতে আবীরের চরিত্র অনেক বেশি মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তবধর্মী। সমাজের গঠন, মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব—সবই এসেছে ছবির মধ্যে । আবীর সেই চরিত্রে নিজেকে যেভাবে মেলে ধরেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে তিনি এখন চ্যালেঞ্জিং ও গভীর ভাবনার জায়গায় নিজেকে বেশি খুঁজে পান।
তবে এই পরিবর্তন কি বাণিজ্যিক ধারার ছবির প্রতি এক ধরনের অনীহা? একদম নয়। বরং বলা যেতে পারে, আবীর এখন এমন গল্প খুঁজছেন, যেটা শুধু বিনোদন নয়, চিন্তাও জাগাতে পারে। তিনি বহুবার বলেছেন, “গল্পই শেষ কথা।” ফলে, যেখানেই ভালো গল্প—সেখানেই তিনি।
সুতরাং, আবীর হয়তো আগের মতো ঘনঘন মূলধারার ছবিতে দেখা দেবেন না, কিন্তু এর মানে এই নয় যে তিনি একঘরে হয়ে যাচ্ছেন। বরং তিনি এখন এমন এক অভিনেতা, যিনি বেছে নিচ্ছেন তাঁর কাজ, যত্ন নিয়ে, মন দিয়ে।
আবীর চট্টোপাধ্যায় এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি নিজেই নিজের ধারা তৈরি করছেন—না সেটা পুরোপুরি মূলধারা, না পুরোপুরি অন্যধারা—একটি সৃষ্টিশীল মেলবন্ধন।





